বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচন ও সীমান্তে উত্তেজনার প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেল ভারত

লেখক: Nopur
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Manual8 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

Manual6 Ad Code

বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন।

সেনাপ্রধান এক বিরল প্রেস ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট করেই বলেছেন, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে।

দেশে দ্রুত নির্বাচন নিয়ে বারবার চাপ দিয়ে আসছে বর্তমানে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি ও সমমনারা। সর্বশেষ ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এরিক গারসেটি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত—দুই দেশই যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন দেখতে চায়।

তবে আজ শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়রে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার প্রশ্নে কোনো মন্তব্য করেননি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল।

Manual2 Ad Code

শুধু তা-ই নয়, সীমান্তের শূন্যরেখায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ নিয়ে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং সীমান্ত চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টার মন্তব্য নিয়েও প্রশ্নও এড়িয়ে গেছেন রণধীর। অবশ্য বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ভারতের সরকারি অবস্থান আরেকবার ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচন নিয়ে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের উল্লেখ করে প্রশ্ন করা হয়। ভারতের পক্ষ থেকেও দ্রুত নির্বাচনের দাবি উঠেছে—এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন কূটনীতিক। ওই বিষয়ে ভারতের মনোভাব কী?

Manual6 Ad Code

এ প্রশ্নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল কোনো মন্তব্য করেননি।তবে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত কী ধরনের সম্পর্ক চায়, সেটির ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

মুখপাত্র বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি সম্প্রতি বাংলাদেশে গিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে এসেছেন, ভারত ইতিবাচক মনোভাব নিয়েই এগোতে চায়।বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ভারত সুসম্পর্ক চায়, যাতে দুই দেশের জনগণের মঙ্গল হয়।

জয়সোয়াল বলেন, ‘এটাই আমাদের মনোভাব। বারবার তা জানানো হয়েছে। এই মনোভাব ইতিবাচক এবং এই মনোভাবই বহাল থাকবে।’

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সীমান্ত এলাকায় কিছু অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়ে উত্তেজনাও ছড়িয়েছে। এ নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে একাধিক পতাকা বৈঠক হয়েছে।

উভয় দেশের সীমান্তরক্ষীরা এ নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সীমান্ত চুক্তি পর্যালোচনার কথা বলেছেন।

এ বিষয় উল্লেখ করে জানতে চাওয়া হয়, দুই দেশের সার্বভৌম সরকারের করা চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানিয়েছে কি না।

জবাবে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের অস্থায়ী হাইকমিশনারকে ডেকে ভারতের মনোভাবের কথা স্পষ্ট করে বলে দেওয়াও হয়েছে। তাঁকে বলা হয়েছে, সীমান্ত অপরাধমুক্ত রাখতে ভারত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সে জন্য আন্তসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পণ্যের চোরাচালান, মানুষ ও গরু পাচার বন্ধে সীমান্তে বেড়া দেওয়া, আলোর ব্যবস্থা করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হবে।

জয়সোয়াল বলেন, ভারত চায়, এই বিষয়ে আগে যে বোঝাপড়া হয়েছিল, তা কার্যকর করা হবে। সীমান্ত অপরাধমুক্ত রাখতে বাংলাদেশ সরকার সহযোগিতার ভিত্তিতে অতীতের সব বোঝাপড়া কার্যকর করুক, এটাই ভারতের আশা।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের মালদা ও বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এই মাসের শুরুতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ শুরু করে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এতে বাধা দেয় বিজিবি। বিজিবির সঙ্গে যোগ দেয় স্থানীয় জনগণও।

Manual1 Ad Code

এ নিয়ে দুই বাহিনীর পতাকা বৈঠক হয়। এরপর থেকে ভারত সীমান্তে বেড়া নির্মাণ বন্ধ রেখেছে। ভারত দাবি করছে, তারা চুক্তি অনুযায়ী বেড়া তৈরি করছে। তবে ঢাকা জানিয়েছে, সাবেক সরকারের আমলে হওয়া এ চুক্তি পর্যালোচনা করা হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code