

ডেস্ক নিউজ:অযত্ন, অবহেলা অবৈধ দখলের কারণে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বধ্যভূমিগুলো নিশ্চিহ্ন হতে চলছে। সারা বাংলাদেশে এ পর্যন্ত হাজারখানেক বধ্যভূমি শনাক্ত করা হলেও সংরক্ষণ করা হয়েছে মাত্র ৩৫টি।
অথচ ১০ বছর আগে উচ্চ আদালতে বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণের পক্ষে রায় দেয়া হয়েছিল। এরপর কয়েক দফা বড় বড় বাজেটের প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও দৃশ্যত কোন পরিবর্তন হয়নি। শুরু থেকে অভিযোগ উঠেছে দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলাসহ আরও নানা অনিয়মের।
ঢাকায় যে বদ্ধভূমিগুলো রয়েছে তারমধ্যে ২৩টি রয়েছে মিরপুর এলাকায়। যার মধ্যে অন্যতম মিরপুর বাঙলা কলেজের বদ্ধভূমিটি।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণায় এই বদ্ধভূমির কথা বারবার উঠে এলেও কলেজের ভেতরে এ সংক্রান্ত একটি ফলক ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়েনি।
কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাকে কলেজের পেছনের জলাশয়টি ঘুরিয়ে দেখান, যেখানে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী সেনারা মানুষদের হত্যা করে ফেলে রাখতো।
অথচ বাংলাদেশের ইতিহাসের সাক্ষ্য বহনকারীটি এই বদ্ধভূমির চারপাশে এখন ময়লার স্তূপ, জায়গায় জায়গায় গড়ে উঠেছে কলেজের কর্মচারীদের থাকার ঘর এবং শৌচাগার।
জলাশয়টির কিছু দূরেই রয়েছে একটি পুরানো গাছ, সেখানে মানুষদের বেঁধে পিছিয়ে শিরচ্ছেদ করা হতো বলেও জানা গেছে।
কলেজটির শিক্ষার্থী শাহরিয়ার মাসুদ বলছিলেন, তারা ২০০৭ সাল থেকে এই বদ্ধভূমি সংরক্ষণের দাবিতে তারা আন্দোলন করে আসলেও আজ পর্যন্ত তারা আশ্বাস ছাড়া কিছু পাননি।
আমাদের এখানে নতুন যে শিক্ষার্থীরা আসে, তারা এই বদ্ধভূমি নিয়ে কিছুই জানেনা। অথচ আমাদের বাংলা কলেজ মুক্তিযুদ্ধের নৃশংসতার সাক্ষী। আমরা বার বার বলে আসছি, কিন্তু কলেজ প্রশাসন হোক, সরকার হোক কাউকেই আমরা কাজ করতে দেখছি না।