

সম্পাদকীয়: দেশে রেলের টিকিট কালোবাজারি চলে আসছে বহু বছর ধরেই। এ পরিস্থিতি এড়াতে এবং টিকিটপ্রাপ্তি সহজ করতে অনলাইনে টিকিট বিক্রির কার্যক্রম চালু করে সরকার। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এরপরও কালোবাজারি চক্রের তৎপরতা বন্ধ হয়নি।এ বছর এপ্রিলে ঈদুল ফিতরের সময় দেখা গেছে, অনলাইনে টিকিট বিক্রির দায়িত্বপ্রাপ্ত সহজ ডটকমের সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার নিজেই টিকিট সংকটের মূলহোতা! এ কারণে সে সময় ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছিল।
বস্তুত ভুক্তভোগীরা প্রায়ই অভিযোগ করেন, সকালে অনলাইনে টিকিট ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সব টিকিট শেষ হয়ে যায়। এর একটি বড় কারণ যে কালোবাজারিদের হাতে টিকিট চলে যাওয়া, সেটা এখন স্পষ্ট। দেখা গেছে, টিকিট কালোবাজারি চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশের কারণেই সাধারণ মানুষের টিকিট পেতে সমস্যা হয়। এই কালোবাজারি ও অসৎ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে তাদের প্রত্যেককে কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত বলে মনে করি আমরা।
এরকম মুষ্টিমেয় কিছু অসৎ কর্মকর্তার কারণে গোটা দেশবাসীকে রেলের টিকিট সংগ্রহে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তাই এই কালোবাজারি চক্রের মূলোৎপাটনের বিকল্প নেই। যে কোনো পরিবহণ মাধ্যমের নির্বিঘ্নে টিকিটপ্রাপ্তি জনগণের নাগরিক অধিকার। যারা এক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তাদের নির্মূল করা সরকারের দায়িত্ব। যে প্রতিষ্ঠানকে অনলাইনে টিকিট বিক্রির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সে প্রতিষ্ঠানকেও সততা ও দক্ষতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ দিতে হবে। নয়তো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও এ ধরনের দুর্নীতির দায় এড়াতে পারবে না।