লকডাউনে মুরগী নিয়ে চরম বিপাকে খামারীরা

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual1 Ad Code

 

নওগাঁ :
করোনা ভাইরাস বিস্তাররোধে সারা দেশের মতো নওগাঁতেও লকডাউন চলছে। এমতঃ পরিস্থিতিতে জেলার পোল্ট্রি খামারীরা তাদের খামারে উৎপাদিত পোলট্রি মুরগী নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। অর্ধেক দামেও বিক্রি হচ্ছে না এই সব মুরগী। এতে করে পুঁজি হারিয়ে পথে বসতে শুরু করেছে খামারীরা। তাই কৃষির মতো এই পোলট্রি শিল্পটাকে বেঁচে রাখার জন্য এই সংকটময় মূহুর্তে সরকারের কাছে ভুর্তকি ও সহায়তা কামনা করেছেন খামারী।

Manual4 Ad Code

সূত্রে জানা গেছে, প্রাণীজ ও আমিষের সিংহ ভাগই আসে পোলট্রি মুরগী থেকে। এক সময় এই শিল্পটি অত্যন্ত লাভজনক হলেও বর্তমানে পোলট্রি মুরগীর খাবারের উপর অতিরিক্ত কর আরোপ ও ঔষুধের মূল্য বৃদ্ধি করায় লাভের পরিমাণটা কমে গেছে অনেকটাই। তবুও বেকারত্বকে জয় করার লক্ষ্যে শিক্ষিত বেকার যুবক, গৃহিণী ও কিছু মানুষেরা এই শিল্পটিকে লাভের আশায় ধরে রেখেছেন। কিন্তু সারা বিশ্বের মতো হঠাৎ মহামারী করোনা ভাইরাস বাংলাদেশেও আক্রমন করার কারণে এবং এই ভাইরাস বিস্তাররোধের জন্য সরকার অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য সবকিছু বন্ধ করে দেওয়ায় খামারে উৎপাদিত পোলট্রি মুরগীগুলো চরম বিপদে পড়েছে খামারীরা। এই জেলার উৎপাদিত পোলট্রি মুরগী প্রধানত ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চালান হতো। কিন্তু যান চলাচল বন্ধ থাকার কারণে এই মুরগীগুলো বাজারজাত করতে পারছে না। যে মুরগী পূর্বে ১১৫-১২০টাকা কেজি বিক্রি হতো বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কারণে ৬০-৭০ টাকা কেজিতেও কেউ কিনছে না। যার কারণে বাধ্য হয়েই খামারীদের মুরগী খামারে রাখতে হচ্ছে এতে করে খাবার ও ঔষধ বেশি লাগছে।

Manual1 Ad Code

খট্টেশ্বর রাণীনগর গ্রামের খামারী বাপ্পী জানান, আমি বেকারত্ব দূর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে একটি খামার করেছি। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কারণে আমি মুরগী বিক্রি করতে পারছি না। এতে আমার খরচ দ্বিগুন হচ্ছে এবং বেশিদিন মুরগী খামারে থাকার জন্য মরেও যাচ্ছে। আমি এখন চরম বিপাকে পড়েছি। এভাবে আর কিছু দিন চলতে থাকলে আমাকে পথে বসতে হবে।

চনমনু গ্রামের খামারী নুরজাহান বেগম বলেন, এমনিতে এই শিল্পটি লোকসানে পরিণত হয়েছে তার উপর আবার করোনা ভাইরাসের কারণে মুরগী বিক্রি করতে পারছি না। আর মুরগী বিক্রি না হওয়াই আমি খাবারও কিনতে পারছি না বাচ্চাও কিনতে পারছি না। আমি বর্তমানে চর্তুমুখি সমস্যায় পড়ে গেছি। তাই আমি খামারীদের উপর সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি। তা নাহলে এই শিল্পটি ধ্বংস হয়ে যাবে দেশের লাখ লাখ খামারীরা নি:স্ব হয়ে পথে বসবে।

দড়িয়াপুর গ্রামের খামারী মতিউর রহমান উজ্জ্বল হোসেন বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পটির প্রতি সরকারের কোন সুদৃষ্টি নেই। তা না হলে এই শিল্পের প্রধান উপকরন খাদ্য, ওষুধসহ অন্যান্য জিনিসের দাম হু হু করে বৃদ্ধি পায় কেমন করে। যার কারণে এই শিল্পটি লাভের স্থানে লোকসানে পরিণত হয়েছে। তাই এই সংকটময় সময়ে দেশের লাখ লাখ খামারীদের বাঁচানোর জন্য সরকারের উচিত খামারীদের সঠিক তালিকা করে সরকারি ভুর্তকি প্রদান করা।

Manual7 Ad Code

আফতাব ফিড কোম্পানির ডিলার কেএইচএম নয়ন খাঁন লুলু জানান, পোলট্রি শিল্পটি আজ ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে। প্রান্তিক খামারীরা আস্তে আস্তে এই ব্যবসাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। কারণ দিন দিন ঔষধ, বাচ্চা ও খাবারের দাম যে পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে লাভের কোন আশা নেই। বড় বড় কোম্পানীকে সরকার ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করলেও প্রান্তিক পর্যায়ের খামারী ও ডিলারদের জন্য সরকারের কোন সুযোগ-সুবিধা নেই। যদি সরকার স্বল্প সুদে ঋণ দিতো তাহলে খামারীরা কিছুটা হলেও লাভবান হতো। এই শিল্পটিকে বেঁচে রাখতে চেষ্টা করতো।

জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হেলাল হোসেন প্রতিবেদককে জানান, মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে লোকসানে পড়া খামারীদের ভুর্তকি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে আমাদের কাছে এখনোও পর্যন্ত কোন নির্দেশনা আসেনি। তবে আমি এই বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষন করবো।

Manual8 Ad Code

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ইসরাফিল আলম বলেন, পোলট্রি শিল্পটি একটি সম্ভাবনাময় শিল্প। অনেক শিক্ষিত বেকার যুবক ও মানুষরা পোলট্রি মুরগীর খামার করে বেকারত্বকে জয় করেছে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে বর্তমানে এই শিল্পটি ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আমি এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত আমার নির্বাচনী এলাকার খামারীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের জন্য চেষ্টা করবো। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন এবং এই শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য আগামীতে আমি জাতীয় সংসদে খামারীদের সুযোগ-সুবিধা প্রদানসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code