শীতের অর্থনীতি নজরে রাখতে হবে

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ২ years ago

Manual2 Ad Code

ফিচার ডেস্ক: শীতকাল ছোট হয়ে আসছে বলে অনেকে অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে থাকি। যারা জলবায়ু পরিবর্তন
নিয়ে কাজ করেন, তাদের সবাই বেজায় চিন্তিত না হলেও বুঝে উঠতে চান এর কারণ। তবে যারা এ বিষয়ের লোক
নই, তাদের কেউ কেউ হয়তো আগ্রহী হয়ে উঠি শীতের অর্থনীতি নিয়ে। গ্রীষ্ম, বর্ষার মতো শীতেরও একটা
অর্থনীতি রয়েছে এবং তার গতিপ্রকৃতি বুঝে ওঠা প্রয়োজন। যেমন, আমাদের প্রধান ধান-চাল উৎপাদন মৌসুম
(বোরো) শুরুর আগে এর বীজতলা তৈরির এ সময়টায় শীত তীব্র হলে কীভাবে কী করতে হবে সে বিষয়ে কৃষি
কর্মকর্তারা দিচ্ছেন নির্দেশনা।
এ সংক্রান্ত খবর মিডিয়ায়ও প্রচারিত হচ্ছে। তাতে বীজতলা রক্ষার বিষয়ে তারাও জানতে পারছি, যারা কখনো
কোনোভাবেই কৃষিকাজে সম্পৃক্ত ছিলাম না। তবে সন্দেহ কী, এসব পড়তে পড়তে ধান-চাল উৎপাদনের মতো জরুরি
কাজের সঙ্গে অনুভব করছি গভীর একাত্মতা। চাল তো আমাদের প্রধান খাদ্যশস্য আর খাদ্য নিরাপত্তায়
রয়েছে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। শীতে কাবু হয়ে সংবাদপত্র পড়তে পড়তে আমরা কি এ খবরও পড়ছি না-আমনের এ
ভরা মৌসুমে অন্যান্য খাদ্যপণ্যের সঙ্গে চালের দাম বাড়ছে নতুন করে? এ অবস্থায় বোরো উৎপাদন
একটুখানিও ব্যাহত হতে দেওয়া যাবে না।

Manual7 Ad Code

দেশের সবখানে তাপমাত্রা স্বভাবতই একইভাবে নেমে যায়নি; তবে অনেক অঞ্চলে শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে
জনজীবন। বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। গ্রীষ্মে যখন তাপপ্রবাহ বয়ে যায়, তখন আমরা ভুলে থাকি শৈত্যপ্রবাহের
কথা। অবশ্য মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার মতো তাপমাত্রা নামেনি এখনো। তাতেও শীত অনুভূত হচ্ছে
তীব্রভাবে এবং লোকজন এ নিয়ে অনেক কথাবার্তা বলছে। খবর হলো, অচিরেই বৃষ্টি হতে পারে দেশে এবং এ
মাসের শেষ পর্যন্ত আরও তীব্র শীত আমাদের করে রাখতে পারে কাবু। এতে শীতজনিত অসুখবিসুখ আরও বেড়ে
উঠবে, বিশেষত বয়স্ক ও শিশুদের মধ্যে। হাসপাতালে বাড়বে রোগীর চাপ। সবারই চেষ্টা থাকা উচিত শীতের এ
ক্ষতিকর প্রভাব এড়িয়ে চলার। করোনায় ভুগে যারা ভেতরে ভেতরে কাহিল, তাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে
হবে। কারও অসুস্থতা মানে তো স্বজনদেরও পেরেশানি আর অর্থ ব্যয়ের চাপ।

Manual6 Ad Code

শীতের এ সময়টায় বিশেষ করে মাথায় রাখতে হবে তাদের, যারা উপার্জনমূলক কাজে যেতে পারছে না কিংবা গেলেও
কাজ পাচ্ছে না বা আগের মতো আয় করতে ব্যর্থ। তাদের কি সঞ্চয় রয়েছে খরচ করার? কেউ কি ধারকর্জ দেবে
তাদের? সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি অনেক বিস্তৃত এখন। এতে অনেকেই উপকৃত হচ্ছে সন্দেহ নেই। প্রতিবছর
শীতে যারা উপার্জন করতে না পেরে বাড়তি সংকটে পড়ে কিছুদিনের জন্য, তাদের ক্ষেত্রে কী করা যেতে পারে? এ
জনগোষ্ঠীর ভেতর কম্বলসহ শীতবস্ত্র বিতরণ করে তাদের সুরক্ষার কাজ বেড়েছে বৈকি। ব্যক্তিগতভাবেও
সম্পদশালী অনেকে এটা করে থাকেন। তবে রাষ্ট্রের তরফে তাদের জন্য বিশেষ আর্থিক সুরক্ষাও এ সময়ে
প্রয়োজন। জানি না, আলাদা করে এমন কর্মসূচি আছে কি না।

Manual5 Ad Code

দেশে কেউ গৃহহীন থাকবে না বলে সরকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে এবং এ লক্ষ্যে প্রকল্প চলমান। তবে
আমাদের মতো দেশে কাজটি সহজ নয়। সে কারণে খোলা আকাশের নিচে থাকা গৃহহীনদের কথাই এখন বেশি করে
মনে আসতে পারে তাদের, যারা দালানকোঠার মধ্যেও শীতের তীব্রতা অনুভব করছি। এ সময়ে ধুয়ে দেওয়া জামা-
কাপড় সহজে শুকায় না বলে যারা অভিযোগ করি এবং অপেক্ষা করি সূর্যকিরণের, তারা কি অনুভব করতে পারি
ওদের কষ্ট-তাপমাত্রা আরও নেমে আসার সময়টায় যাদের রাত কাটাতে হয় খোলা জায়গায়? তাদের কারও কারও
মৃত্যুও ঘটে থাকে এ সময়ে। আসলে তারা মারা যায় অপুষ্টিতে আর শরীরে রোগব্যাধি বাসা বেঁধেছে বলে। শীত এসে
হঠাৎ যে ধাক্কা দেয়, সেটা তারা সামলাতে পারে না।

Manual7 Ad Code

এমন কোনো শীত কিন্তু পড়েনি দেশে। শীতপ্রধান দেশগুলোর যেসব খবর পাই, সেটা এখানকার তুলনায় ভয়াবহ।
এমনকি নয়াদিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি শীত পড়েছে। এ-ও ঠিক, শীতের
তীব্রতা বাড়ছে এ অঞ্চলে-স্থায়িত্ব কমে এলেও। সেটা ভালোভাবে মোকাবিলা করতে হবে আমাদের। শুধু
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নয়; ফসল রক্ষায় দেখাতে হবে সাফল্য। মাঠে এ মুহূর্তে সবজিসহ যেসব ফসল রয়েছে, তার
সুরক্ষায় কৃষি কর্মকর্তাদের বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। এ শীতের মধ্যেই দেশে একটা নির্বাচন হয়ে
গেল এবং নতুন সরকারে নতুন কৃষিমন্ত্রীও দায়িত্ব নিলেন। আমরা দেখতে চাইব এ সময়ে কৃষির সুরক্ষায় তার
উপযুক্ত নেতৃত্ব। বোরোর বীজতলা রক্ষাসহ আলু, পেঁয়াজের মতো ফসলের উৎপাদনও ব্যাহত হতে দেওয়া যাবে
না। শীতকালীন সবজির উৎপাদন এবারও ভালো; যদিও দাম অস্বাভাবিক রকম বেশি। শীতের প্রকোপে এর
উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হলে দাম আরও বাড়তে পারে। কৃষিতে এ সময়ে রোগবালাই ব্যবস্থাপনা হয়ে ওঠে জরুরি।
এক্ষেত্রে অল্প প্রয়াসও আমাদের দিতে পারে ভালো ‘রিটার্ন’।

শীতে জলাশয়গুলো শুকিয়ে মাছের সরবরাহ বাড়ে বলেও আমরা আশা করে থাকি, এ সময়ে মূল্যস্ফীতি কিছুটা হলেও
কমে আসবে। ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতি নাকি সত্যিই কিছুটা কমেছে। জানুয়ারিতে এটা আবার বেড়ে যেতে পারে। কারণ
সবজির সঙ্গে চালের বাজারেও দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। মুরগির সঙ্গে মাছের দামও কিছুটা বেড়েছে। নতুন আলু
ওঠার পরও এর দাম অন্যবারের মতো কমছে না। শীতের আগ দিয়ে ‘মুড়ি কাটা পেঁয়াজ’ উঠলেও এর আমদানি
জটিলতায় অশান্ত হয়ে ওঠা বাজার শান্ত হয়ে আসতে সময় নিচ্ছে বেশি। রমজানে চাহিদা বাড়বে এমন সব পণ্যের
দাম এখনই বাড়ছে নতুন করে। যেমন: ভোজ্যতেল, ডালজাতীয় পণ্য। এগুলোর সঙ্গে শীতের সম্পর্ক আছে বলে
মনে হয় না। সম্পর্ক আছে বরং আমদানির। তবে শীতের প্রকোপে, বিশেষত কুয়াশায় পণ্য পরিবহণ বিঘ্নিত এবং
এর ব্যয় বেড়ে গিয়ে থাকে। এর প্রভাব পড়ে পণ্যবাজারে। একে অজুহাত হিসাবে ব্যবহারের প্রবণতাও কম নেই।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code