বিদ্যুৎ খাতের অপচয়-দুর্নীতি রোধ করতে হবে

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual2 Ad Code

সম্পাদকীয়: গ্যাস সংকটের কারণে দেশে এখন মধ্যরাতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুতের লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। কখনো ভোরেও আচমকা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ছে অনেক এলাকা। তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ে নাভিশ্বাস উঠছে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের। খোদ রাজধানীতে এখন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।
এদিকে দিনে-রাতে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টাও লোডশেডিং করা হচ্ছে গ্রামের বেশির ভাগ অঞ্চলে। বিদ্যুতের অভাবে শিল্পকারখানায় উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে। এ ছাড়া চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে কৃষকের সেচ কার্যক্রম। জানা গেছে, কারিগরি ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি স্বল্পতা ও অন্যান্য কারণে দেশের অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে দেশে চাহিদার তুলনায় কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। এ অবস্থায় দেশব্যাপী তীব্র লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে এলএনজি আমদানি কমানো হয়েছে। ফলে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমেছে। দেশে গ্যাসচালিত ৫৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১১ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। অথচ সেসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকের বেশি অলস পড়ে আছে গ্যাসের অভাবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সৃষ্ট সংকটের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা। বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য সব সময় অস্থির থাকে, এটা বহুল আলোচিত। দেশে গ্যাসের অনুসন্ধানে আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হলে জ্বালানি খাত এতটা নাজুক পরিস্থিতির মুখে পড়ত না, এমনটাই মনে করেন এ খাতের অনেক বিশেষজ্ঞ। প্রশ্ন হলো, বিশ্ববাজারে যদি জ্বালানির দাম কাক্সিক্ষত মাত্রায় না কমে, তাহলে আগামী গ্রীষ্ম মৌসুমে কর্তৃপক্ষ কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে? যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যদি বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়ে, তাহলে কর্তৃপক্ষ কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবে? বিদ্যুৎ খাতের চুরি-দুর্নীতি রোধ করা হলে আশা করা যায়, এ খাতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code