

ডেস্ক রিপোর্ট : হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বুধবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, মৌরিতানিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী গত পাঁচ বছরে অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের ওপর নির্যাতন থেকে শুরু করে ধর্ষণের মতো ‘গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন’ করেছে।দেশটি আফ্রিকা মহাদেশ জুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ইউরোপে বিপজ্জনক সমুদ্র পথ পাড়ি দিয়ে তাদের মধ্যে অনেকেই স্পেনে যাচ্ছেন।মানবাধিকার সংস্থাটি বলেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও স্পেন মৌরিতানিয়ার সঙ্গে তাদের অভিবাসন ব্যবস্থাপনা করছে, যার মধ্যে সীমান্ত ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করাও অন্তর্ভুক্ত। ১৪২ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের গোড়ার দিকে মৌরিতানিয়ান পুলিশ, উপকূলরক্ষী, নৌবাহিনী, জেন্ডারমেরি ও সেনাবাহিনী কর্তৃক সীমান্ত ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের সময় সংঘটিত লঙ্ঘনের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ভুক্তভোগীদের বেশিরভাগই পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকান দেশগুলোর নাগরিক। ‘তারা দেশটি ছেড়ে যেতে বা ট্রানজিট করতে চাইছিলেন।’এইচআরডব্লিউ শরণার্থী ও অভিবাসী অধিকার গবেষক লরেন সেইবার্ট বলেন, বছরের পর বছর ধরে, মৌরিতানিয়ান কর্তৃপক্ষ অন্যান্য অঞ্চল থেকে আসা আফ্রিকান অভিবাসীদের অধিকার লঙ্ঘন করে, একটি অপমানজনক অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ নীতি অনুসরণ করেছে। দুঃখজনকভাবে উত্তর আফ্রিকার সর্বত্রই এমন নীতি অনুসরণ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুসারে জানা গেছে, এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্যে নির্যাতন, ধর্ষণ ও সহিংসতার পাশাপাশি যৌন হয়রানি, নির্বিচারে গ্রেপ্তার, আটক, চুরি ও সম্মিলিত বহিষ্কার অন্তর্ভুক্ত। এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, ‘তবে মৌরিতানিয়ার সরকার সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নিয়েছে’, যা অভিবাসীদের সুরক্ষা ও তাদের অধিকার কিছুটা হলেও নিশ্চিত হতে পারে।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর আফ্রিকা থেকে স্পেনে, বিশেষ করে আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টার সময় হাজার হাজার অভিবাসী মারা গেছেন।প্রতিবেদনটি তৈরির সময় এইচআরডব্লিউ ২২৩ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। এদের মধ্যে আফ্রিকার ১০০ জনেরও বেশি অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীও রয়েছে।প্রতিবেদনটি প্রমাণ যাচাই করে এবং অভিবাসী আটক কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে তৈরি করা হয়েছে ।এই প্রতিবেদনে মোট ৭৭ জন পুরুষ, নারী ও শিশু-যারা অভিবাসী বা আশ্রয়প্রার্থী ছিলেন এবং একজন মৌরিতানিয়ান পুরুষের বিরুদ্ধে নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে এইচআরডব্লিউ।মাদ্রিদের তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র ২০২৪ সালেই স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে নৌকায় করে রেকর্ড ৪৬ হাজার ৮শ ৪৩ জন মানুষ এসে পৌঁছেছিল। যেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে এই হার প্রায় ১১ হাজার ৫শ’ জনে নেমে এসেছে। এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, মৌরিতানিয়া সরকার প্রতিবেদনের অনেক অভিযোগ অস্বীকার করেছে।