

বিশেষ প্রতিবেদন:বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে ‘স্ট্রেনদেনিং উইম্যানস অ্যাবিলিটি ফর প্রোডাকটিভ নিউ অপরচুনিটিস’ প্রকল্প। চাহিদা অনুযায়ী বৈদেশিক ঋণ না পাওয়ায় চলমান প্রকল্পটি ছয় বছরের মাথায় এসে বাদ দিচ্ছে সরকার।
সূত্র জানায়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে ২০১৫ সালে ৬৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। প্রকল্পের মূল অগ্রগতি হয়েছে ২২ শতাংশ। বৈদেশিক সহায়তা পাওয়া যায়নি। তাই অসমাপ্ত রেখেই প্রকল্পটির সমাপ্তি ঘটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
যদিও ইতোমধ্যেই এই প্রকল্পের আওতায় দেশের পাঁচ জেলার ১২ হাজার ৪৯২ জন নারী সহায়তা পেয়েছেন। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রকল্পটিকে রাখা হয়নি।
আরও জানা জানা যায়, মূলত চার কারণে প্রকল্পটি গ্রহণ করেছিল সরকার। এগুলো হচ্ছে— নারীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, উপকূলীয় এবং খাদ্য ঘাটতি প্রবণ চরম দারিদ্র্য অঞ্চলের দুস্থ ও অসহায় নারীদের ‘দারিদ্র্য ফাঁদ’ থেকে উত্তরণের উপায় উদ্ভাবন ও গ্রামাঞ্চলের দারিদ্র্য বিমোচন এবং উন্নয়ন কর্মসূচিতে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ সরকারের দারিদ্র্য বিমোচন কৌশল সম্পর্কে অবহিত করা এবং সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আলোকে দারিদ্র্য বিমোচনে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা।
মূলত, এসব কারণেই টেকসই প্রকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই ছিল ‘স্ট্রেনদেনিং উইম্যানস অ্যাবিলিটি ফর প্রোডাকটিভ নিউ অপরচুনিটিস’ প্রকল্পের উদ্দেশ্য।
জানা গেছে, মূল ডিপিপি অনুযায়ী, জুন ২০২২ পর্যন্ত প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ১৮৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা (২১ দশমিক ৭১ শতাংশ)। বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ২২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। প্রকল্পটি অসমাপ্ত রেখে সমাপ্ত করার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে— বৈদেশিক অনুদান সংস্থান করা সম্ভব না হওয়ায় এবং লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।