ভারতের বিরুদ্ধে নেপালের কেন বিদ্রোহ?

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual5 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট,ঢাকা: নেপাল ভারত সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ করেছে এবং সীমান্তের বিভিন্ন অংশে হেলিপ্যাড বানাচ্ছে। নেপাল তার নতুন মানচিত্রে ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরার অঞ্চলগুলোকে নেপালি ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করছে। ভারত হিমালয়ের কৈলাস মানস সরোবর যাওয়ার জন্য চীনের তিব্বত সীমান্তের লিপুলেখের সঙ্গে সংযুক্তকারী ৮০ কিলোমিটার একটি বাইপাস রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নিলে নেপালের সঙ্গে সাম্প্রতিককালে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ওইসব এলাকাকে নিজেদের দাবি করার পক্ষে নেপাল ঐতিহাসিক দলিল-পত্র দেখাচ্ছে আর ভারত তা মানার পরিবর্তে সেটি যে কয়েক যুগ ধরে ভারতের দখলে আছে সেটা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে নেপালকে।

Manual6 Ad Code

এই চলমান বিরোধের মধ্যে চলতি সপ্তাহে নেপাল ভারতকে সীমান্তে একটি বাঁধ নির্মাণ বন্ধ রাখতে বাধ্য করেছে। ভারতের বিহার রাজ্যের সঙ্গে নেপালের ৭২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। বিহারের চম্পারন জেলার লাল বাকাইয়া নদীর উপর ভারতের প্রাণিসম্পদ বিভাগের একটি বাঁধ আছে। এবার এই বাঁধটা সংস্কার করতে গেলে নেপালের সীমান্তরক্ষী বাহিনীগুলো চালায়। এতে এক ভারতীয় বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়। এই এলাকায় প্রতি বছর বন্যা হয়, তাই বাঁধটা সংস্কার করা প্রায় রুটিন ওয়ার্কের মতো। বিহার সরকার আলোচনা করে বিরোধ মেটানোর প্রস্তাব করলে নেপাল তাতে সম্মত হয়নি।
ভারতের সঙ্গে বন্যার পানি নিয়ে দুদেশের সমস্যা দীর্ঘদিনের। বর্ষাকালে, জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত, দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক খারাপ হয় পানি নিয়ে। বন্যা হলে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্কে আরও উত্তপ্ত হয়। সীমান্তের দুই পাশের বাসিন্দারা নিজেদের দুঃখ-কষ্টের জন্য পরস্পরকে দায়ী করে। এর কারণ হচ্ছে ভারত এবং নেপালের মধ্যে প্রায় ১৮০০ কিলোমিটার অভিন্ন সীমান্ত রয়েছে। নেপাল থেকে ভারতের উত্তরাঞ্চলে প্রায় ৬০০০ নদী ও জলধারা প্রবাহিত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে ভারতের গঙ্গা নদীতে প্রায় ৭০ শতাংশ পানি আসে নেপাল থেকে প্রবাহিত এসব নদী এবং জলধারা থেকে। যখন এসব নদীতে পানি বেড়ে যায়, তখন নেপাল এবং ভারতে বন্যা দেখা দেয়।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code