স্টাফ রিপোর্টারঃঅবশেষে গ্রেপ্তার হলো বহুল আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতাল প্রতারণা মামলার প্রধান আসামি ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ। ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্রসহ তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। সাহেদকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হবে।
করোনা আক্রান্ত রোগীদের সাথে প্রতারণা সহ নানা অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযানের পর থেকেই পলাতক ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. সাহেদ। তাকে ধরতে গত কয়েকদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনুসন্ধান চালায় র্যাব।
বুধবার ভোররাতে সাতক্ষীরার দেবহাটা থানার সাকড়া বাজার এলাকার নবপতি ৩৩ বিজিবির পাশের সীমান্ত থেকে অস্ত্রসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাহেদ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলো বলেও জানিয়েছে র্যাব। সাহেদকে দুপুরেই র্যাবের হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হবে।
এদিকে, প্রতারণায় অভিযুক্ত সাহেদের গ্রেপ্তারের খবরে আনন্দ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। এর আগে গাজীপুর থেকে সাহেদের অন্যতম সহযোগী ও রিজেন্ট গ্রুপের এমডি মাসুদ পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৬-ই জুলাই, সোমবার রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে হাসপাতাল দুটিকে সিলগালা করে দেয় র্যাব। এ ঘটনায় ১৭ জনকে আসামী করে করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে মামলাটি ঢাকা মহানগর উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন-রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ (৪৩), ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ পারভেজ (৪০), অ্যাডমিন আহসান হাবীব (৪৫), এক্সরে টেকনিশিয়ান হাসান (৪৯), মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট হাকিম আলী (২৫), রিসিপশনিস্ট কামরুল ইসলাম (৩৫), রিজেন্ট গ্রুপের প্রজেক্ট অ্যাডমিন রাকিবুল ইসলাম (৩৯), রিজেন্ট গ্রুপের এইচআর অ্যাডমিন অমিত অনিক (৩৩), গাড়িচালক আব্দুস সালাম (২৫), নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রশীদ খান জুয়েল (২৮), হাসপাতালের কর্মচারী তরিকুল ইসলাম (৩৩), স্টাফ আব্দুর রশিদ খান (২৯), স্টাফ শিমুল পারভেজ (২৫), কর্মচারী দীপায়ন বসু (৩২) এবং মাহবুব (৩৮)। এছাড়া দুই জনের নাম জানা যায়নি।
এদিকে, সাহেদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট বিএফআইইউতে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন, দুদক। একইসাথে সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে রিজেন্ট হাসপাতাল সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি তলব করা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে- ক্ষুদ্রঋণ ও এমএলএম ব্যবসার নামে জনসাধারণের সাথে প্রতারণা করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ আছে সাহেদের বিরুদ্ধে। এছাড়া, আয়কর ফাঁকি, ভূয়া নাম ও পরিচয়ে ব্যাংক ঋণ নেয়ার অভিযোগও পেয়েছে দুদক।
এসব অভিযোগ প্রাথমিকভাবে যাচাই করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। দুদকের উপ-পরিচালক আবু বকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিম নিয়োগ দিয়েছে কমিশন।
অন্যদকে অভিযোগ রয়েছে, সাহেদ শুধু হাসপাতালের মালিকই ছিলেন না, তিনি নদী খননের ঠিকাদারিও করেছেন। কিন্তু সেখানেও ছিল প্রতারণা। কাজের মান ছিল খুবই নিম্নমানের। নাটোরে তেমনি একটি কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল বিআইডাব্লিওটিএ। কিন্তু মানেননি সাহেদ। হুমকি ধামকি দিয়ে টাকা আদায় করেছেন। স্থানীয়রা বলছেন সাহেদ ডিসি ও এসপির নামে হুমকি দিতেন। যদিও তারা কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেছেন।
স্থানীয়রা বলছেন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে হুমকি দেয়া ছিল সাহেদের নিত্যদিনের কাজ। তারা জানান,’ওনার সাথেই এসপি ডিসি থাকতো। পারভেজ, নাসির, রবি এই সব প্রতারকরা ডিসি এসপি সেজে ফোন দিতো।’
স্থানীয়রা জানান, বিআইডাব্লিওটিএ কাজ বন্ধ করার পরই হেলিকপ্টারে গুরুদাসপুরে পৌঁছে তার লোকজনকে কাজ চালিয়ে যেতে বলেন। কাজ শেষে পাওনাদারদের টাকা না দিয়েই চলে যায় তার প্রতিষ্ঠান।
আর হেলিকপ্টারে করে আসায় তাকে হোমড়া চোমড়া মনে করছিলেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের একজন বলেন, ‘হেলিকপ্টার নিয়ে এখানে আসলো, দেখেই তো মনে করছি বড় মাপের মানুষ। তারপর শুনি এ দোকান ও দোকানে বাকি।’ স্থানীয় প্রশানসন বলছে, পাওনাদার বা প্রতারিতরা মামলা করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানায় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে ৯১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছেন এক ব্যবসায়ী।
গাড়ির টায়ার ও যন্ত্রাংশ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স মেগা মোটর্সের মালিক জিয়া উদ্দিন জাহাঙ্গীরের পক্ষে মামলাটি দায়ের করেন সাইফুদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। মামলায় সাহেদ ছাড়াও শহীদুল্লাহ নামে আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালে বিআরটিএ’র চেয়ারম্যানের সই জাল করে মেগা মোটর্স প্রতিষ্ঠানকে রাজধানী ঢাকায় ত্রি-হুইলার যানবাহন চলাচলের অনুমতি নিয়ে দেয়ার কথা বলে ৯১ লাখ ২৫ হাজার টাকা নেয় সাহেদ। পরে তার কাছে টাকা চাইতে গেলে উল্টো মামলার হুমকি দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, মামলা তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে