সরকারি হাসপাতালে বিকল অবস্থায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার অধিকাংশ যন্ত্রপাতি

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

Manual1 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: সরকারি বিকল অবস্থায় রয়েছে রোগ পরীক্ষা-নিরীক্ষার অধিকাংশ যন্ত্রপাতি। আর ওসব যন্ত্র মেরামতেই মাসের পর মাস সময় চলে যাচ্ছে। বর্তমানে রাজধানীসহ সারা দেশের সরকারি হাসপাতালে বিপুল পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্র নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে সরকারি হাসপাতালগুলোর সিংহভাগ রোগীই পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাইরে বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে বাধ্য হচ্ছে। আবার পরীক্ষা-নিরীক্ষার সব ব্যবস্থা থাকার পরও দালালচক্র রোগীদের ভাগিয়ে নিয়ে যায় বাই। প্রায় সব সরকারি হাসপাতালেই ওই বাণিজ্য চলছে। পাশাপাশি অভিযোগ রয়েছে, সরকারি হাসপাতালের যন্ত্রপাতি মেরামত করার নামেও লাখ লাখ টাকা লুটপাট হয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে রাজধানীর একাধিক সরকারি হাসপাতালেই প্রায়ই এক্স-রে, এমআরআই ও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনসহ একাধিক যন্ত্র নষ্ট হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে শর্তানুযায়ী মেরামত করার সময় থাকলে হাসপাতাল থেকে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে মেরামতের জন্য জানানো হয়। কিন্তু সেক্ষেত্রে চিঠি চালাচালি করতে করতে কিংবা কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করার পর একজন ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনেশিয়ান পাঠালেও তারা আসতেই চলে যায় অনেক দিন পার হয়ে যায়। আর রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে গেলে আরো বেড়ে যায় হয়রানি। তখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি মেরামত কারখানায় পাঠাতে হয়। আর প্রতিষ্ঠানে মেরামত করা সম্ভব হলে করে দেয়া হয়। আর যন্ত্রাংশ না থাকলে সরবরাহ করার জন্য ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়। এভাবেই চলে যায় মাসের পর মাস সময়। ফলে রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আবার ঠিকাদার নিয়োগ আর যন্ত্রাংশ কেনাকাটা নিয়েও হয় পুকুর চুরি। অনেক ক্ষেত্রে মেরামত করার পর কিছুদিন পরই যন্ত্রটি আবার বিকল হয়ে যায়।

সূত্র জানায়, সরকারি হাসপাতালের বিকল যন্ত্রপাতি রাজধানীর মহাখালীর সরকারি যন্ত্রপাতি মেরামত কারখানা ‘নিমিউ অ্যান্ড টিসি’তে মেরামত করা হয়। কিন্তু বর্তমানে ওই কারখানায় জনবল সংকট রয়েছে আর চাহিদা মেটাতে কারখানাটি সমপ্রসারণ করাও প্রয়োজন। পরিস্থিতি বিবেচনায় যদি ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগীয় পর্যায়ে এবং পুরাতন ১৬টি জেলায় ওই কারখানার কার্যালয় স্থাপন করা হয়তাহলে দ্রুত বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোর বিকল যন্ত্রপাতি মেরামত সহজ হতো।

Manual7 Ad Code

সূত্র আরো জানায়, দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাসপাতালের যন্ত্রপাতি মেরামতের জন্য সরকারি হাসপাতালগগুলোতে বায়ো মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার থাকা প্রয়োজন। কিন্তু দেশের অধিকাংশ সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কিংবা বিশেষায়িত ইনস্টিটউটে বায়ো মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ নেই। যদিও নিউরো সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট ও বার্ন ইনস্টিটিউটে বায়ো মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ৫ বছরেরও বেশি সময় আগে বুয়েটে এই বিভাগ চালু হয়েছে। ফলে প্রতি বছর বায়ো মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পাশ করে জনবল বের হচ্ছে। ওসব শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে সুনামের সঙ্গে কাজ করছে। তাছাড়াও অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়ো মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ রয়েছে। ফলে দেশে বায়ো মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জনবলের অভাব নেই। তবে মানুষের স্বার্থে তাদের কাজে লাগাতে দরকার সদিচ্ছা।

Manual3 Ad Code

এদিকে এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান জানান, পরিস্থিতি নিরসনে প্রতিটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতালে বায়ো মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ চালু করা জরুরি। দেশে কয়েক বছর আগে থেকে এই ধরনের জনবল তৈরি হয়ে আসছে। বুয়েটসহ আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বায়ো মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ রয়েছে।

Manual8 Ad Code

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত কুমার বিশ্বাস জানান, প্রতিটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং বিভাগীয়-জেলা হাসপাতালে বায়ো মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ এবং উপজেলা পর্যায় ডিপ্লোমা কিংবা প্রশিক্ষিত টেকনেশিয়ান দেয়ার বিষয়টি বর্তমান প্রেক্ষাপটে খুবই জরুরি। এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে কার্যক্রম শুরু করা হবে।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code