সারাদেশের ১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual6 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ দ্রুত তাপমাত্রা কমছে সারা দেশে। বাড়ছে শীতের তীব্রতা। হিমালয় পেরিয়ে কনকনে ঠান্ডা বাতাস উত্তরবঙ্গ দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিস্তৃত হচ্ছে। উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। ১০ জেলায় চলছে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের প্রবাহ। রাজধানীতেও প্রতিদিন নামছে তাপমাত্রার পারদ। চুয়াডাঙ্গায় পৌষের শুরুতে গতকাল সোমবার এই মৌসুমের শীতলতম দিন রেকর্ড করা হয়েছে। ঘন কুয়াশা আর উত্তুরে হাওয়ার দাপটে উত্তরাঞ্চলে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমেছে।

Manual7 Ad Code

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমেছে। আজ মঙ্গলবার থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বেশ কয়েকটি এলাকা জুড়ে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহিনুল ইসলাম জানান, খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বেশির ভাগ জায়গায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। রবিবারের চেয়ে গতকাল সোমবার সারা দেশে তাপমাত্রা কমেছে। ইতিমধ্যে তিনটা বিভাগ শৈত্যপ্রবাহের আওতায় চলে এসেছে।

খুলনা, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের তাপমাত্রা কমেছে। আবহাওয়াবিদ আবদুল হামিদ বলেন, চলতি সপ্তাহ জুড়ে শীতের প্রকোপ থাকবে। সপ্তাহ শেষে ফের তাপমাত্রা বেড়ে কিছুটা স্হিতিশীল আবহাওয়া মিলবে। ডিসেম্বরের শেষে বা জানুয়ারির শুরুতে আরেক দফা শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে। আবহাওয়াবিদ মুহম্মদ আরিফ হোসেন বলেন, চলমান এই শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে এবং আরো বিস্তার পেতে পারে। গতকাল সোমবার চুয়াডাঙ্গায় পারদ নেমে এসেছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, এটাই সারা দেশে এ বছরের দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এছাড়া যশোরে ৭ দশমিক ৪ এবং তেঁতুলিয়ায় ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ঈশ্বরদী, রাজশাহী, বদলগাছী, রাজারহাট, বরিশালেও তাপমাত্রা নেমেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে। আবহাওয়া অফিস বলছে, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, যশোর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও বরিশাল অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বড় এলাকা জুড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। আর তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। গতকাল ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা রবিবার ছিল ১৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দিনের সর্বোচ্চ ২৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

Manual1 Ad Code

কানাডার সাসকোয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, গতকাল সন্ধ্যা নাগাদ ঠান্ডা বাতাস বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বইতে শুরু করেছে। কনকনে হাওয়া রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে প্রথমে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। শৈতপ্রবাহ ছাড়াও রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে ঘন কুয়াশা অতিক্রম করছে গতকাল রাত থেকে। বর্তমানে এই কুয়াশা হিমালয় পর্বতের পাদদেশ দিয়ে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হচ্ছে এবং পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার সীমান্েতর অদূরে অবস্হান করছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সবশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা কমলেও দেশের অন্যত্র তাপমাত্রা একই রকম থাকবে। শৈত্যপ্রবাহ থাকবে আগামী আরো দুই-তিন দিন, সেই সঙ্গে এর বিস্তৃতি হতে পারে। এরপর তাপমাত্রা কিছুটা বাড়বে, পরে আবার শুরু হবে শীতের প্রকোপ।

আবহাওয়া অফিস বলছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তত্সংলগ্ন বাংলাদেশ এলাকায় বিরাজমান। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং তত্সংলগ্ন বিষুবীয় ভারত মহাসাগর এলাকায় অবস্হানরত লঘুচাপটি বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে উত্তর সুমাত্রা উপকূলের অদূরে দক্ষিণ আন্দামান সাগরে অবস্হান করছে। এদিকে শীতে বিশেষ করে ছিন্নমূল দরিদ্র মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, হাঁপানিসহ শীতজনিত নানা রোগ। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন-প্রতিষ্ঠান ও বিত্তবানদের পক্ষ থেকে শীতার্তদের কষ্ট লাঘবে সবচেয়ে বেশি যা জরুরি, তা হলো মানবিক সহায়তা, বিশেষত ছিন্নমূল দরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। এদিকে উত্তরাঞ্চলে হিমেল হাওয়া, প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশা অব্যাহত রয়েছে। তবে আগের চেয়ে তাপমাত্রা বাড়লেও শীতের তীব্রতা কমেনি।

এদিকে, শীতের তীব্রতায় জনজীবনে দুর্ভোগের পাশাপাশি ফসল উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র শীতে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বোরো বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে কৃষকদের আশঙ্কা। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে চুয়াডাঙ্গা চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গায় হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে। তীব্র শীত উপেক্ষা করে কাজের সন্ধানে বের হওয়া খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছে বিপাকে। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে শীতার্ত মানুষ। গতকাল সোমবার চুয়াডাঙ্গায় ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এই মৌসুমে এটিই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের দেখা মিললেও শৈত্যপ্রবাহের কারণে কমেনি শীতের দাপট।

ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এই এলাকার মানুষ। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার সকাল ৯টার পর জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটাই জেলায় এই মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। তাপমাত্রা আরো কমতে পারে। তীব্র শীতে প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। ফলে সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়েছে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। সোমবার ভোরে এলাকার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ও চায়ের দোকানে শীত নিবারণের চেষ্টায় আগুন জ্বালিয়ে উত্তাপ নিতে দেখা গেছে নিম্ন আয়ের মানুষকে। ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা কমেছে ৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা :২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা কমেছে ৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সোমবার ঈশ্বরদীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে রোববার তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঈশ্বরদী আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন এ তথ্য জানিয়েছেন।

নাজমুল আরো জানান, পৌষের শুরুতে শীত পড়তে শুরু করেছে। তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে শীতের তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি শীত মৌসুমে এটিই ঈশ্বরদীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। আবহাওয়া অফিস এই অবস্হাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে ব্যাখ্যা দিয়েছে। এদিকে ঈশ্বরদী হাসপাতালের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের শিশু চিকিত্সক ডা. আব্দুল বাতেন জানান, শিশুরা কোল্ড ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, হূদ্রোগ, অ্যাজমাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের শরণাপন্ন হচ্ছেন। খুলনায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রভাব খুলনা অফিস জানায়, খুলনায় পৌষের শুরুতেই ক্রমান্বয়ে কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা। এতে বাড়তে শুরু করেছে শীতের প্রকোপ। গত দুই-তিন দিন ধরে উত্তরের বাতাসে রাতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে সূর্যের মুখ দেখা গেলেও ঠান্ডা বাতাসের দাপটে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়েছে।

Manual3 Ad Code

আবহাওয়া অফিস বলছে, খুলনা বিভাগে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। এখন থেকে রাতের তাপমাত্রার সঙ্গে সঙ্গে দিনের প্রথম ও শেষ ভাগেও তাপমাত্রা কমতে থাকবে। এতে শীত বাড়বে। দিনের বেলায় সূর্যের তাপে তেমন শীত অনুভূত না হলেও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই ঠান্ডার তীব্রতা বাড়তে শুরু করেছে। রাত গভীর হলে ঠান্ডাও বাড়তে থাকে। এ অবস্হায় রাতে গরম কাপড়ের অভাবে শীতকষ্টে ভুগছে ছিন্নমূল মানুষ। বিশেষ করে রাতের বেলায় দুর্ভোগ বেড়েছে বৃদ্ধ ও শিশুদের। খুলনা আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, সোমবার খুলনায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গত রবিবার ছিল ১৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শনিবার ছিল ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খুলনা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ মো. আমিরুল আজাদ বলেন, খুলনা বিভাগে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই শৈত্যপ্রবাহ আরো দুই-এক দিন থাকবে এবং শীতের তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code