সৈয়দপুরে রোটা ভাইরাসের সহস্রাধিক শিশু আক্রান্ত

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual1 Ad Code

নীলফামারী:
শীতের শেষে হিমালয় পাদদেশীয় অঞ্চল নীলফামারীর সৈয়দপুরে এখন শীতল আবহাওয়া বিরাজ করছে। দিনের অর্ধেক সময় সূর্য দেখা না মিললেও তাপমাত্রা তেমন কমেনি। তবে একটানা ঠান্ডা বাতাসের কারণে এ জনপদে ছড়িয়ে পড়েছে পানি বাহিত রোটা ভাইরাস জীবাণু। এতে প্রায় সহস্রাধিক নবজাতক ও শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এতে অবিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভয়ের কিছু নেই। পর্যাপ্ত যতœ ও নির্দেশিত চিকিৎসা নিয়মিত হলে ৫ থেকে ৭ দিনেই এ ভাইরাসের প্রকোপ সেরে যায়। তবে রোগের তীব্রতা বাড়লে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

Manual3 Ad Code

সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ১০ দিন ধরে এ উপজেলার তাপমাত্রা ঊঠা নামা করছে। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারী) সর্বোচ্চ ২২০ ডিগ্রি হলেও রাতে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির কারণে তাপমাত্র কমে গিয়েছিল। আবার সকালে সুর্যদয়ের আলোয় কারণে তাপমাত্রা বেড়েছে। তবে এর এক সপ্তাহ ধরে ১০ থেকে ১৮ ডিগ্রি মধ্যে তাপমাত্রা উঠানামা করছে। দিন ও রাতে হিমেল হাওয়া আর সূর্যোদয় অর্ধেক দিন তাপমাত্রার ঠান্ডা-গড়মে প্রভাব পড়েছে শিশুসহ বৃদ্ধদের মধ্যে। তারা শীত জনিত নানান রোগে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ তৈয়ব আলী (৭০) নামে এক বৃদ্ধ মারা গেছে। সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মো. ওমেদুল হাসান সম্রাট জানান, কয়েকদিন ধরে সৈয়দপুর ও তার আশ-পাশে তীব্র শীত পড়েছে। এর কারণে রোটা ভাইরাসের পাশাপাশি শ্বাসকষ্টজনিত রোগিও বেড়েছে। তবে শীতের প্রায় শেষ সময়ে কোন ধরনের বিপর্যয়ের আশংকা নেই বলে জানান সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইনচার্জ মো. লোকমাস হাকিম।
তাপমাত্রার এ পরিমাপকে সংশি¬ষ্টরা স্বাভাবিক মনে করলেও একটানা ঠান্ডা বাতাসের কারণে রোটা ভাইরাসের কবলে পড়েছে এ জনপদের শিশু ও নবজাতক। গত ১০ দিন ধরে উপজেলার ৫ ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকসহ হাট বাজারের চিকিৎসাকেন্দ্রে দেখা যায় এ ভাইরাসে আক্রান্তদের উপচে পড়া ভিড়। এ সকল কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্য পরিদর্শিকারা জানান, এ ভাইরাসে আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পরই সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হচ্ছে। অনেকে সুস্থ্য হলেও বেশিরভাগই হাসপাতালমুখি হয়েছে। তবে সামর্থ্যবানরা ছুটছেন শিশু বিশেষজ্ঞদের কাছে।
গত বৃহস্পতিবার সৈয়দপুর হাসপাতালে গিয়ে কথা হয় রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুর অভিভাবকদের সাথে, তারা জানান ঘন ঘন পাতলা পায়খানা ও বমির কারণে ৩ থেকে ৫ দিন চিকিৎসার পরও সুস্থ্য না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছি। আলম নামের এক নবজাতকের অভিভাবক জানান, মাত্র ৩০ দিন বয়সী তার সন্তানকে এ রোগে শিশু বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা নেয়ার পরও সুস্থ্য হয়নি। পরে হাসপাতালে ভর্তি হলে একই পরামর্শে চলছে চিকিৎসা। তাই এ নিয়ে ভিশন দুশ্চিন্তা। একই অভিযোগ করেন অন্যান্য অভিভাবকরাও। তবে এ হাসপাতালের ১ কক্ষে ১৫ টি বেডে প্রায় শতাধিক শিশুকে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নেয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মুশফিকুর(১ বছর) নামে এক রোগীর অভিভাবক জানান, রোটা ভাইরাসের বিপর্যস্ত শিশুদের জন্য ওষুধ রয়েছে। তবে লিুকুইড স্যালাইনের জন্য ক্যানুলা,জক্স সিরাপ ও বমির অর্ডানসেট্রন সিরাপ সংকটের কারণে বাহিওে কিনতে হচ্ছে। এ নিয়ে লাইলি নামের নার্সিং সুপার ভাইজার জানান, প্রতিদিন ২০ টি শিশু মারাত্বক অবস্থায় ভর্তি হচ্ছে। তবে বহিঃবিভাগে ১০ দিনে প্রায় ৩ হাজার শিশু এ রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়া ভর্তি রোগীরা সুস্থ্য হয়ে ফিরেছেন বলে জানান তিনি।
সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ আফরোজা বেগম সুমি জানান, এ ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুরা বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নেয়ার পর ২ থেকে ৩ দিন গত হওয়ার পর মুমূর্ষ অবস্থায় এখানে আসে। তাই অনেক যতœসহকারে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর সিদ্ধান্ত নিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছি আমরা। তবে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাথমিক অবস্থায় এ হাসপাতালে আসলে এর আরোগ্য দ্রুত সম্ভব। তবে ভয়ের কিছু নেই।বাড়তি যতœ ও নির্দেশ মত ঔষধের পাশাপাশি খাওয়ার স্যালাইন খাওয়ালে দ্রুত আরোগ্যও সফলতা সম্ভব। যেহেতু শীতল আবহাওয়াজনিত এ ভাইরাসের আবির্ভাব তাই এ আবহাওয়া কেটে গেলে এর প্রকোপ আর থাকবে না।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code