হামাস প্রধান মোহাম্মদ সিনওয়ারকে হত্যা করা হয়েছে: ঘোষণা নেতানিয়াহুর

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Manual3 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বুধবার এক ঘোষণা জানিয়েছেন, ইসরাইলি সেনাবাহিনী সম্প্রতি এক বিমান হামলায় হামাসের শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ সিনওয়ারকে হত্যা করেছে।

জেরুজালেম থেকে এএফপি জানায়, ইসরাইলি পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা হাজার হাজার সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছি। আমরা [মোহাম্মদ] দেইফ, [ইসমাইল] হানিয়েহ, ইয়াহিয়া সিনওয়ার এবং মোহাম্মদ সিনওয়ারকে হত্যা করেছি।’

এই বক্তব্যের মাধ্যমে নেতানিয়াহু প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মোহাম্মদ সিনওয়ারের মৃত্যুর কথা জানালেন। তবে তিনি হামলার সময়, স্থান বা অন্যান্য বিশদ বিবরণ দেননি।

এর আগে ইসরাইলি গণমাধ্যম জানায়, গত ১৩ মে খান ইউনুস শহরের ইউরোপিয়ান হাসপাতালের নিচে অবস্থিত একটি হামাস কমান্ড সেন্টারে চালানো বিমান হামলার লক্ষ্য ছিলেন মোহাম্মদ সিনওয়ার।

Manual6 Ad Code

সেনাবাহিনী তখন জানিয়েছিল, সেখানে হামাসের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা অবস্থান করছিলেন। তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে সে সময় কেউ নিহত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেনি।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ওই হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং আরও ৪০ জন আহত হন।

সিনওয়ার পরিবারের প্রভাব ও নেটওয়ার্ক

মোহাম্মদ সিনওয়ার ছিলেন হামাসের সবচেয়ে আলোচিত নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের ছোট ভাই। বড় ভাই ইয়াহিয়া সিনওয়ারেরকে ২০২৩ সালে ইসরাইল একটি অভিযানে হত্যা করে বলে দাবি করেছিল। এরপরই মোহাম্মদ সিনওয়ার গাজায় হামাসের প্রধান নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন।

ইসরাইলি সূত্র মতে, সিনওয়ার ভাইয়েরা খান ইউনুস শহরেরই বাসিন্দা, এবং তাদের পরিবার বহু বছর ধরেই হামাসের সামরিক ও রাজনৈতিক শাখায় সক্রিয়।

Manual2 Ad Code

ইসরাইলি গোয়েন্দাদের মতে, মোহাম্মদ ছিলেন হামাসের ‘জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ’-এর একজন সদস্য এবং তিনি সরাসরি কাসেম ব্রিগেডের কমান্ডার মোহাম্মদ দেইফের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।

Manual3 Ad Code

অতীত হামলা ও আলোচিত অপহরণ

২০০৬ সালে গাজা সীমান্তে ইসরাইলি সেনাঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনায়ও জড়িত ছিলেন মোহাম্মদ সিনওয়ার। সেই হামলায় ইসরাইলি সেনা গিলাদ শালিত অপহৃত হন। পাঁচ বছর ধরে গোপনে আটকে রাখার পর ২০১১ সালে এক বন্দী বিনিময় চুক্তিতে ১,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি বন্দীর বিনিময়ে শালিতকে মুক্তি দেয় হামাস। সেই বিনিময়ে মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যেই ছিলেন ইয়াহিয়া সিনওয়ার, যিনি পরে হামাসের প্রধান হন।

Manual3 Ad Code

শরণার্থী শিবির থেকে যুদ্ধের নেতৃত্বে

মোহাম্মদ সিনওয়ার ১৯৭৫ সালে গাজার খান ইউনুস শহরের ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবার ১৯৪৮ সালে ইসরাইলের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় বিতাড়িত ফিলিস্তিনিদের একজন। হামাস প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরপরই তিনি কিশোর বয়সে দলে যোগ দেন এবং ক্রমেই সামরিক শাখার গুরুত্বপূর্ণ পদে উন্নীত হন।

গোপন জীবন, টানেলের রাজনীতি

২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে ইসরাইলি সেনাবাহিনী একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে গাজা টানেলের ভেতর গাড়িতে বসা এক দাড়িওয়ালা ব্যক্তিকে দেখা যায়। সেনাবাহিনী দাবি করে, সেই ব্যক্তি ছিলেন মোহাম্মদ সিনওয়ার। এটিই হতে পারে তার খুব কমসংখ্যক দৃশ্যমান প্রকাশ্য ছবির একটি। হামাস সে সময় এই দাবির সত্যতা স্বীকার করেনি।

হামলার আগে ও পরে

মোহাম্মদ সিনওয়ার ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পরিকল্পনায়ও জড়িত ছিলেন বলে ইসরাইলের দাবি। তাদের মতে, হামাসের কেবল হাতে গোনা কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার এই অভিযানের আগাম পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতেন এবং মোহাম্মদ সিনওয়ার তাদের একজন ছিলেন।

হামাস পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মোহাম্মদ সিনওয়ারের মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে নেতানিয়াহুর মন্তব্যে বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে উঠেছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ডেস্ক বিজে

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  • হামাস প্রধান মোহাম্মদ সিনওয়ারকে হত্যা করা হয়েছে: ঘোষণা নেতানিয়াহুর
  • Manual1 Ad Code
    Manual5 Ad Code