সেন্ট সাভায় সৌন্দর্যের ঝলকানি

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual2 Ad Code

ডেস্ক নিউজ: সার্বিয়ার রয়েল প্যালেস থেকে যখন বের হই, সময় তখন ভর সন্ধ্যা। প্যালেসের মূল ভবন থেকে তাও ৩০০ ফুট দূরে ফটক। আমাদের গাড়িবহর সেখানেই। দু’পাশে ফুলের বাগান। মাঝে সরু রাস্তা। এ পথটুকু হেঁটে গাড়িতে উঠতে হবে। চারপাশে নিয়ন আলো। তাতে সবুজ গাছপালার রূপান্তর যেন ফিকে টিয়ে রঙে। মুষলধারে বৃষ্টি শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ। বাইরে তখন ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক। আসলে কি ঝিঁ ঝিঁ পোকা? পৃথিবীর সব দেশেই কি এটা পরিচিত দৃশ্য? কী এক মাদকতায় মন উদাস হয়ে ওঠে।

জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন-ন্যামের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ সম্মেলন। এতে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের একজন সদস্য আমি। সম্মেলনের ফাঁকে ফাঁকে ঘুরে দেখার আয়োজন। সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, শিক্ষা ব্যবস্থাসহ নানান ক্ষেত্রে সার্বিয়ার অবস্থান তুলে ধরতেই ঘোরাঘুরির এই কর্মসূচি। ট্যুর গাইড, গাড়ি, নিরাপত্তা– স্বাগতিক সার্বিয়ার ব্যবস্থাপনাতেই সব। আমাদের টিমের সমন্বয়ক দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি মিলিচা ক্রিভোকাপিচ।

Manual3 Ad Code

দিনভর ঘোরাঘুরি। বৃষ্টিমুখর সন্ধ্যায় এবার গন্তব্য সেন্ট সাভা অর্থোডক্স ক্যাথেড্রাল চার্চ। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৩০০ মিটারেরও বেশি উঁচুতে এই গির্জা। ভূগোলের পরিভাষায় যাকে বলা হয় ‘মালভূমি’। দিনের বেলায় রোদ থাকলে গির্জাটিকে ঝকঝকে লাগে। স্বর্ণ দিয়ে মোড়ানো নান্দনিক সৌন্দর্যের এই নিদর্শন থেকে চোখ সরানোই দায়। এটি অবস্থিত ভ্রাকার পাহাড়ের চূড়ায়। এর বড় সুবিধা হলো বেলগ্রেডের যেকোনও অ্যাপ্রোচ রোড থেকেই দেখা যায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে স্বর্ণমন্দির। এর ভেতরে ১০ হাজারেরও বেশি লোক একসঙ্গে প্রার্থনা করতে পারে।

Manual1 Ad Code

আয়তনের দিক থেকে বিশ্বে এর অবস্থান দ্বিতীয়। আয়তন তিন হাজার ৬৫০ বর্গমিটার। সাত হাজার ৯৬০ বর্গমিটার ভেতরের আয়তন নিয়ে তালিকার প্রথমে রয়েছে আয়া সোফিয়া। তুরস্কের ইস্তানবুুলে অবস্থিত এই গির্জা অবশ্য এখন মসজিদে রূপ নিয়েছে।

Manual1 Ad Code

ঘন জঙ্গলের বুক চিরে যাওয়া সড়কে আমাদের গাড়ির গতি অনেকটাই ধীর। সড়কে যানচলাচল কম। শোঁ শোঁ করে ভেঁপু বাজিয়ে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে দু’একটা গাড়ি। সড়কের পাশে কোথাও কোথাও রাজপ্রাসাদের মতো বাড়ি। সাদা, মেটে বা লালচে রঙের একেকটা ঢাউস আকৃতির বাড়ি।

Manual7 Ad Code

সার্বিয়ার রাজধানী শহর বেলগ্রেডকে বলা হয় ‘জাদুঘরের শহর’। এটি ‘গির্জার শহর’ নামেও পরিচিত। বিশ্বব্যাপী ঢাকার নামডাক যেমন মসজিদের শহর।

সার্বিয়ার অধিবাসীদের বেশিরভাগই খ্রিস্টান। তাদের প্রায় ৮৫ শতাংশ অর্থোডক্স এবং ৫ শতাংশ রোমান ক্যাথলিক। মুসলিমদের সংখ্যা মোট জনগোষ্ঠীর মাত্র ৩ শতাংশ। ১ শতাংশের মতো লোক ধর্মকর্মের ধার ধারে না। সার্বিয়ার সংবিধানও ধর্মীয় বিধিনিষেধকে সমাজের প্রচলিত আইনকানুনের মধ্যে আনেনি। যার যা খুশি করা যায়, শুধু সমাজে শান্তি থাকলেই হলো। তবে সার্বিয়ানরা গির্জাকে কেন্দ্র করেই দৈনন্দিন জীবনের কাজ চালিয়ে নেয়। গোটা সার্বিয়া জুড়েই অসংখ্য গির্জা, মঠ, খ্রিস্ট-ধর্মীয় উপাসনালয়ের ছড়াছড়ি। এছাড়া আছে অসংখ্য দুর্গ। বেলগ্রেডকে তাই বলা হয় সাদা শহরের দেশ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code